গ্লুটাথায়োন নিয়ে আলোচনা যত বাড়ছে, ভুল ধারণাও তত ছড়াচ্ছে। অনেকেই সঠিক তথ্য না জেনে ব্যবহার শুরু করে দেন, আবার কেউ সোশ্যাল মিডিয়ার কথায় বিভ্রান্ত হন। এই আর্টিকেলে আমরা গ্লুটাথায়োন ব্যবহারের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুলগুলো পরিষ্কারভাবে বুঝে নেব।
১. গ্লুটাথায়োন মানেই ফর্সা—এই ধারণা ভুল
সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হলো, গ্লুটাথায়োন খেলেই ত্বক ফর্সা হয়ে যাবে। বাস্তবে এটি একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যার মূল কাজ শরীরকে ভেতর থেকে সুরক্ষা দেওয়া। ত্বক উজ্জ্বল হওয়া কারও ক্ষেত্রে হতে পারে, আবার অনেকের ক্ষেত্রে নাও হতে পারে।
ত্বকের রং নির্ভর করে—
-
জেনেটিক্স
-
লাইফস্টাইল
-
হরমোন
-
সূর্যের প্রভাব
গ্লুটাথায়োন এখানে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু অলৌকিক সমাধান নয়।
২. বেশি নিলেই ভালো—এই চিন্তাও ঝুঁকিপূর্ণ
অনেকে দ্রুত ফল পেতে বেশি ডোজ নিতে শুরু করেন। এটা বিপজ্জনক।
অতিরিক্ত গ্লুটাথায়োন গ্রহণ করলে—
-
শরীরের নিজস্ব উৎপাদন কমে যেতে পারে
-
লিভার ও কিডনির ওপর চাপ পড়ে
-
হরমোনাল ব্যালেন্স নষ্ট হতে পারে
সব সাপ্লিমেন্টের মতো এখানেও সঠিক মাত্রা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
৩. ইনজেকশন সবসময় ভালো—এটা ভুল ধারণা
ইনজেকশন দ্রুত কাজ করে ঠিকই, কিন্তু ঝুঁকিও সবচেয়ে বেশি এখানেই।
ইনজেকশন ব্যবহারে ঝুঁকি হতে পারে—
-
ইনফেকশন
-
এলার্জিক রিঅ্যাকশন
-
কিডনি বা লিভার জটিলতা
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শুধু “দ্রুত রেজাল্ট” এর জন্য ইনজেকশন নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
৪. সবার জন্য নিরাপদ—এটাও সত্য নয়
গ্লুটাথায়োন সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী না।
বিশেষ করে যাদের—
-
কিডনি সমস্যা
-
লিভারের রোগ
-
হাঁপানি
-
গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদান চলছে
তাদের অবশ্যই আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।
৫. সাপ্লিমেন্টই সব—লাইফস্টাইল অবহেলা করা
অনেকে শুধু ক্যাপসুল খেলেই দায়িত্ব শেষ ভাবেন। অথচ গ্লুটাথায়োন প্রাকৃতিকভাবেও শরীরে বাড়ানো যায়।
যেসব অভ্যাস গ্লুটাথায়োন বাড়াতে সাহায্য করে—
-
পর্যাপ্ত ঘুম
-
শাকসবজি ও ফল
-
ভিটামিন C সমৃদ্ধ খাবার
-
নিয়মিত হালকা ব্যায়াম
-
ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা
এই অভ্যাসগুলো না থাকলে সাপ্লিমেন্টের ফলও সীমিত হয়।
বাস্তব সিদ্ধান্ত
গ্লুটাথায়োন ভালো না খারাপ—এটা নির্ভর করে আপনি কীভাবে, কেন, আর কতদিন ব্যবহার করছেন তার ওপর।
জ্ঞান ছাড়া ব্যবহার ঝুঁকি বাড়ায়
সঠিক তথ্য ব্যবহারকে নিরাপদ করে
শেষ কথা
স্বাস্থ্য নিয়ে শর্টকাট নেই। গ্লুটাথায়োন হোক বা অন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট—সবকিছুর ক্ষেত্রেই সচেতন সিদ্ধান্তই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
