সাধারণ প্রোস্টেট বৃদ্ধি নাকি ক্যান্সার—পার্থক্য জানুন
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসমস্যা হলো প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া। অনেকেই এই সমস্যাকে অবহেলা করেন, আবার কেউ কেউ অযথা ভয় পান। বাস্তবতা হলো—প্রোস্টেট বড় হওয়া মানেই ক্যান্সার নয়। তবে সময়মতো বুঝে চিকিৎসা না করলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
চলুন বিষয়টা পরিষ্কার করে বুঝি।

প্রোস্টেট কী এবং কেন এটি বড় হয়
প্রোস্টেট হলো পুরুষদের একটি ছোট গ্রন্থি, যা মূত্রথলির নিচে এবং মূত্রনালিকে ঘিরে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হরমোনজনিত কারণে এই গ্রন্থি ধীরে ধীরে বড় হতে পারে। একে বলা হয় Benign Prostatic Hyperplasia (BPH) বা সাধারণ প্রোস্টেট বৃদ্ধি।
এটি ক্যান্সার নয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রাণঘাতীও নয়।
সাধারণ প্রোস্টেট বৃদ্ধি (BPH)-এর লক্ষণ
সাধারণ প্রোস্টেট বড় হলে যেসব লক্ষণ বেশি দেখা যায়—
-
রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
-
প্রস্রাব শুরু হতে সময় লাগা
-
প্রস্রাবের চাপ কমে যাওয়া
-
প্রস্রাব শেষ করতে দেরি হওয়া
-
হঠাৎ চাপ এলে প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা
-
সহবাসের পর হালকা অস্বস্তি বা জ্বালাভাব
-
অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েও সমস্যার সমাধান না হওয়া
-
সাধারণত বয়স ৫০-এর পরে বেশি দেখা যায়, তবে কম বয়সেও হতে পারে
👉 এই অবস্থায় সাধারণত তীব্র ব্যথা বা রক্তপাত হয় না।
প্রোস্টেট ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ
প্রোস্টেট ক্যান্সারের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো—
শুরুর দিকে অনেক সময় কোনো লক্ষণই থাকে না।
তবে রোগ বাড়লে দেখা দিতে পারে—
-
প্রস্রাব করতে খুব বেশি কষ্ট হওয়া
-
প্রস্রাব বা বীর্যপাতের সময় তীব্র ব্যথা
-
প্রস্রাব বা বীর্যে রক্ত আসা
-
সম্পূর্ণভাবে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া
-
তলপেট বা পেলভিক অংশে ভারী ভাব
-
পা বা পায়ের পাতা অবশ হয়ে যাওয়া
-
কোমর বা হাড়ে ব্যথা
-
অল্প আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়া (ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লে)
কীভাবে নিশ্চিতভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়
শুধু লক্ষণ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় না। এজন্য প্রয়োজন কিছু পরীক্ষা—
-
PSA (Prostate Specific Antigen) রক্ত পরীক্ষা
-
আল্ট্রাসনোগ্রাম (প্রস্রাবের আগে ও পরে)
-
DRE (মলদ্বার দিয়ে আঙুল দিয়ে পরীক্ষা)
-
মাল্টিপ্যারামেট্রিক MRI
-
Biopsy — ক্যান্সার নিশ্চিত করার একমাত্র উপায়
প্রোস্টেট বড় হলে করণীয়
-
অবশ্যই একজন ইউরোলজিস্ট এর পরামর্শ নিতে হবে
-
প্রাথমিক অবস্থায় ওষুধেই ভালো থাকা যায়
-
ওষুধে কাজ না করলে চিকিৎসকের পরামর্শে অপারেশন
-
ক্যান্সার হলে স্টেজ অনুযায়ী অপারেশন, রেডিওথেরাপি বা হরমোন থেরাপি দেওয়া হয়
প্রোস্টেট ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লে কী হয়
চিকিৎসা না করলে ক্যান্সার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে, বিশেষ করে—
-
মেরুদণ্ড
-
পেলভিক হাড়
-
শরীরের অন্যান্য হাড়
এই অবস্থায় চিকিৎসা জটিল হলেও আগেভাগে ধরা পড়লে রোগী অনেকদিন সুস্থ জীবন যাপন করতে পারেন।
ঝুঁকির কারণ
-
বয়স বৃদ্ধি
-
স্থূলতা
-
অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার
-
পুরুষ হরমোন (এন্ড্রোজেন)
-
অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন
প্রতিরোধ ও সচেতনতা
-
অতিরিক্ত ওজন এড়িয়ে চলা
-
নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম
-
প্রতিদিন শাকসবজি খাওয়া
-
৫০ বছরের পর নিয়মিত চেকআপ
-
কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া
শেষ কথা
প্রোস্টেট সংক্রান্ত সমস্যা লজ্জার নয়, অবহেলারও নয়।
মনে রাখবেন—
👉 প্রোস্টেট বড় হওয়া সাধারণ বিষয় হতে পারে,
কিন্তু পরীক্ষা ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া বিপজ্জনক।
সময়মতো সচেতন হলেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
