শিশুর জ্বর হলে করণীয়

শিশুর জ্বর হলে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো শান্ত থাকা আর ঠিকভাবে পরিস্থিতি বোঝা। বেশিরভাগ জ্বরই ভয়ংকর কিছু না, কিন্তু অবহেলা করা ঠিক নয়। চলুন ধাপে ধাপে দেখি।

প্রথমে বুঝে নিন

  • হালকা জ্বর: 99.5°F – 101.1°F

  • বেশি জ্বর: 101.3°F বা তার বেশি

সহজভাবে মনে রাখার জন্য

  • 100°F এর কাছাকাছি → হালকা জ্বর

  • 101°F এর বেশি → বেশি জ্বর

থার্মোমিটার থাকলে সেটাই ব্যবহার করুন। হাত দিয়ে আন্দাজ করা নির্ভরযোগ্য না।

জ্বর হলে সঙ্গে সঙ্গে যা করবেন

১. হালকা কাপড় পরান
মোটা কাপড় বা কম্বল দেবেন না। শরীরের তাপ বের হতে দিন।

২. শরীর মুছিয়ে দিন (Sponge bath)
কুসুম গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে গা মুছিয়ে দিন।
ঠান্ডা পানি বা বরফ ব্যবহার করবেন না।

৩. পর্যাপ্ত পানি ও তরল দিন
জ্বর হলে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়।

  • বুকের দুধ (৬ মাসের কম হলে)

  • পানি, স্যুপ, ডাবের পানি

  • ORS (প্রয়োজনে)

৪. বিশ্রাম নিশ্চিত করুন
খেলাধুলা কমিয়ে দিন। জোর করে খাওয়াবেন না।

৫. জ্বরের ওষুধ (প্রয়োজনে)
শুধু প্যারাসিটামল বয়স ও ওজন অনুযায়ী দেওয়া যায়।
ডোজ না জানলে নিজে নিজে দেবেন না।
অ্যাসপিরিন কখনোই দেবেন না।

কী করবেন না

  • বারবার ওষুধ দেবেন না

  • অ্যান্টিবায়োটিক নিজের ইচ্ছায় দেবেন না

  • গরম তেল মালিশ বা ঝাড়ফুঁক করবেন না

কখন অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাবেন

এই লক্ষণগুলোর যেকোনোটা থাকলে দেরি করবেন না:

  • ৩ দিনের বেশি জ্বর

  • জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি

  • শ্বাস নিতে কষ্ট

  • বারবার বমি বা ডায়রিয়া

  • খেতে বা পান করতে একেবারে না চাওয়া

  • অস্বাভাবিক ঘুম বা অচেতন ভাব

  • ৩ মাসের কম বয়সী শিশুর জ্বর

একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা

জ্বর নিজে কোনো রোগ না—এটা শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে তার লক্ষণ। লক্ষ্য হওয়া উচিত জ্বরের কারণ খুঁজে বের করা, শুধু নামানো না।