শিশুর খাবারে অরুচি খুব সাধারণ একটি সমস্যা। বেশিরভাগ সময় এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু ঠিকভাবে সামলাতে না পারলে ওজন, শক্তি আর অভ্যাস—সবকিছুর ওপর প্রভাব পড়ে। চলুন বিষয়টা পরিষ্কারভাবে দেখি।

আগে বুঝে নিন—কেন অরুচি হচ্ছে
অরুচির পেছনে কয়েকটা সাধারণ কারণ থাকে
-
দাঁত উঠছে বা মুখে ঘা
-
পেট ভরা থাকে, মাঝেমাঝে কিছু খেয়ে ফেলছে
-
জ্বর, সর্দি, কাশি বা হালকা অসুস্থতা
-
একঘেয়ে খাবার
-
জোর করে খাওয়ানোর ভয় বা মানসিক চাপ
কারণ না বুঝে সমাধান করা কঠিন।
কী করলে উপকার পাবেন
১. জোর করবেন না
জোর করে খাওয়ালে শিশুর খাবারের প্রতি ভয় তৈরি হয়। ক্ষুধা হলে সে নিজেই খাবে।
২. অল্প অল্প করে দিন
একবারে অনেক না দিয়ে অল্প পরিমাণে দিন। চাইলে আবার নিতে পারবে—এতেই আগ্রহ বাড়ে।
৩. সময় ঠিক রাখুন
প্রতিদিন একই সময়ে খাবার দিন। অনিয়ম হলে শরীর ক্ষুধার সংকেত ঠিকভাবে দেয় না।
৪. খাবার আকর্ষণীয় করুন
রঙিন সবজি, সুন্দর করে সাজানো থালা—শিশুর চোখ আগে খায়, তারপর পেট।
৫. টিভি বা মোবাইল ছাড়াই খাওয়ান
স্ক্রিন দেখিয়ে খাওয়ালে সে খাবারের স্বাদ ও ক্ষুধা বোঝে না।
৬. নিজে উদাহরণ হন
আপনি যদি আগ্রহ নিয়ে খাবার খান, শিশুও সেটাই শিখবে।
কোন খাবারগুলো কাজে দেয়
-
ঘরে বানানো খিচুড়ি
-
ডাল-ভাতের সঙ্গে সামান্য ঘি
-
কলা, পেঁপে, আপেল
-
ডিম, মাছ (বয়স অনুযায়ী)
-
দই—হজমেও সাহায্য করে
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন
এই লক্ষণগুলো থাকলে দেরি করবেন না
-
ওজন কমে যাচ্ছে
-
খুব দুর্বল বা সবসময় ক্লান্ত
-
দীর্ঘদিন ধরে কিছুই খেতে চায় না
-
বমি, ডায়রিয়া বা জ্বর লেগেই আছে
শেষ কথা—বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুর অরুচি সাময়িক। ধৈর্য রাখুন, পরিবেশটা চাপমুক্ত করুন, আর খাবারকে যুদ্ধ বানাবেন না। ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যায়।
