গ্লুটাথায়োন শরীরের ভেতর তৈরি হওয়া একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। সমস্যা হলো—বয়স, স্ট্রেস, দূষণ আর ভুল লাইফস্টাইলের কারণে এর মাত্রা ধীরে ধীরে কমে যায়। সাপ্লিমেন্ট একটা অপশন, কিন্তু তার আগে প্রাকৃতিক উপায়গুলো জানা জরুরি। এখানেই আসল গেইন।
চলুন, সোজা কথায় কাজে লাগার ৭টা উপায় দেখি।
১. সালফারসমৃদ্ধ খাবার বেশি খান
গ্লুটাথায়োন তৈরিতে সালফার দরকার। এই উপাদানটা খাবার থেকেই সবচেয়ে ভালো পাওয়া যায়।
যেসব খাবার কাজে দেয়
-
রসুন
-
পেঁয়াজ
-
ফুলকপি
-
বাঁধাকপি
-
ব্রকলি
এই খাবারগুলো নিয়মিত খেলে শরীর নিজেই গ্লুটাথায়োন তৈরি করতে পারে।
২. ভিটামিন C আপনার বন্ধু
ভিটামিন C শুধু রোগ প্রতিরোধই না, গ্লুটাথায়োনকে সক্রিয় অবস্থায় ধরে রাখতেও সাহায্য করে।
ভালো উৎস
-
লেবু
-
কমলা
-
পেয়ারা
-
আমলকি
-
স্ট্রবেরি
দিনে অন্তত একবার ভিটামিন C সমৃদ্ধ ফল রাখার চেষ্টা করুন।
৩. পর্যাপ্ত ঘুম—এটার বিকল্প নেই
কম ঘুম মানে বেশি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস। আর বেশি স্ট্রেস মানে কম গ্লুটাথায়োন।
যা লক্ষ্য করবেন
-
দিনে ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম
-
রাত জাগা কমানো
-
ঘুমানোর আগে মোবাইল এড়িয়ে চলা
ভালো ঘুম মানে শরীরের নিজস্ব ডিটক্স সিস্টেম ঠিকমতো কাজ করা।
৪. নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন
অতিরিক্ত হার্ড ওয়ার্কআউট উল্টো ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু নিয়মিত হালকা ব্যায়াম গ্লুটাথায়োন বাড়াতে প্রমাণিতভাবে সাহায্য করে।
ভালো অপশন
-
brisk walking
-
হালকা দৌড়
-
সাইক্লিং
-
যোগব্যায়াম
সপ্তাহে ৪–৫ দিন ৩০ মিনিটই যথেষ্ট।
৫. প্রোটিন ঘাটতি হতে দেবেন না
গ্লুটাথায়োন তৈরি হয় তিনটি অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে। তাই প্রোটিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাকৃতিক প্রোটিন সোর্স
-
ডিম
-
মাছ
-
ডাল
-
বাদাম
-
দই
ডায়েট থেকে প্রোটিন বাদ দিলে গ্লুটাথায়োন কমে যেতেই পারে।
৬. ধূমপান ও অ্যালকোহল যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন
এই দুইটা জিনিস গ্লুটাথায়োনের সবচেয়ে বড় শত্রু।
ফলাফল কী হয়
-
শরীর দ্রুত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট খরচ করে ফেলে
-
লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে
-
ডিটক্স প্রক্রিয়া দুর্বল হয়
যত কম, তত ভালো—এখানে কোনো শর্টকাট নেই।
৭. স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট শিখুন
মানসিক স্ট্রেস সরাসরি গ্লুটাথায়োন কমিয়ে দেয়। এটা অনেকেই বুঝতে চান না।
সহজ কিছু অভ্যাস
-
প্রতিদিন ১০ মিনিট গভীর শ্বাস
-
প্রার্থনা বা মেডিটেশন
-
পছন্দের কাজের সময় রাখা
-
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা এড়িয়ে চলা
মন শান্ত থাকলে শরীরও ভালো কাজ করে।
সংক্ষেপে আসল কথা
গ্লুটাথায়োন বাড়ানোর জন্য প্রথম ধাপ হলো লাইফস্টাইল ঠিক করা। সাপ্লিমেন্ট পরে দরকার হলে নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু প্রাকৃতিক ভিত্তি শক্ত না হলে সেটার ফলও সীমিত হবে।
শেষ কথা
ফর্সা হওয়ার লোভে নয়, সুস্থ থাকার জন্য গ্লুটাথায়োন গুরুত্বপূর্ণ। শরীরকে সুযোগ দিন—সে নিজেই ঠিক কাজটা জানে।



